অক্টো 21, 2026 / By Ibrahim Sohel / in সুন্নত
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস মুবারক উনার বিষয়ে যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُّوَارِيْ سَوْاٰتِكُمْ وَرِيْشًا. وَلِبَاسُ التَّقْوٰى ذٰلِكَ خَيْرٌ .ذٰلِكَ مِنْ اٰيَاتِ اللهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُوْنَ ـ يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِّنَ الْـجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْاٰتِهِمَا إِنَّهٗ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيْلُهٗ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ. إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِيْنَ أَوْلِيَآءَ لِلَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ. وَإِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً قَالُوْا وَجَدْنَا عَلَيْهَاۤ اٰبَآءَنَا وَاللّٰهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَآءِ أَتَقُوْلُوْنَ عَلَى اللهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ
অর্থ: হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী) পোশাক অবর্তীণ করেছি। যার দ্বারা তোমরা তোমাদের সতরকে আবৃত করবে এবং সৌন্দর্য মন্ডিত হবে। আর সম্মানিত তাক্বওয়া বা পরহেযগারী উনার পোশাকই সর্বোত্তম পোশাক মুবারক। উহা মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন উনার অন্তর্ভুক্ত। যাতে তারা নছীহত গ্রহন করে।
হে বনী আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে ফেৎনায় না ফেলে, যেমন তোমাদের পিতা মাতা জান্নাত থেকে জমিনে তাশরীফ মুবারক গ্রহনকালে উনাদের সতর মুবারক অনাবৃত করার উদ্দেশ্যে উনাদের থেকে উনাদের পোশাক মুবারক নিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ফেৎনা করেছিলো।
নিশ্চয়ই সে ও তার দলবল তোমাদেরকে যেভাবে দেখে থাকে, তোমরা তাদেরকে সেভাবে দেখতে পাও না। আর নিশ্চয়ই যারা (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সম্মানিত সুন্নতী লিবাস মুবারক উনাকে) অবিশ্বাস করে, আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি (অর্থাৎ তারা শয়তানের দল)। আর যখন তারা অশ্লীল কাজ করে (বিদয়াতী পোশাক পরিধান করে, পবিত্র সুন্নতী পোশাক বর্জন করে) তখন তারা বলে আমরা আমাদের বাপ-দাদা, আকাবীরদেরকে এর উপর পেয়েছি (এমন পোশাক পরিধান করতেই দেখেছি।) এবং মহান আল্লাহ পাক তিনিও আমাদেরকে এইরূপ আদেশ করেছেন (এই পোশাক পরিধান করতেই নির্দেশ দিয়েছেন।) (নাঊযুবিল্লাহ)। আপনি তাদেরকে বলে দিন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কখনও কাউকে অশ্লীল কাজের আদেশ করেন না। তোমরা কি মহান আল্লাহ পাক উনার ব্যাপারে এমন কথা বলো যা তোমরা জাননা অর্থাৎ তারা পবিত্র সুন্নতী পোশাক বর্জন করে, নিজেদেরকে মুরুব্বীদের অনুসরণ করে, সঠিক পথে রয়েছে বলে মনে করতেছে। (নাঊযুবিল্লাহ) (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ- ২৬, ২৭, ২৮)
উপরোল্লেখিত পবিত্র সূরাতুল আ’রাফ শরীফ উনার ২৬ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি তিন প্রকার পোশাক মুবারক উনার কথা উল্লেখ করেছেন, তা হলো:
১। يُّـوَارِىْ سَوْاٰتِكُمْ لِبَاسٌ সতরকে আবৃত করার পোশাক মুবারক অর্থাৎ ফরয পরিমাণ পোশাক।
২। لِبَاسٌ رِيْشٌ সৌন্দর্য মন্ডিত পোশাক অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নতী পোশাক মুবারক।
৩। لِبَاسُ التَّـقْوٰى তাক্বওয়া বা খোদাভীতি উনার পোশাক মুবারক।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا بَنِىْ اٰدَمَ قَدْ أَنْـزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا
অর্থ: হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি।
কিন্তু কার নিকট ? কোথায় মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত পবিত্র পোশাক অবতীর্ণ করেছেন?
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস মুবারকই পবিত্র জান্নাতী লিবাস মুবারক, যা হযরত ছফীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ سَـمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِلْبَسُوا الثِّيَابَ الْبِيْضَ فَإِنَّـهَا أَطْهَرُ وَأَطْيَبُ وَكَفِّنُـوْا فِيْـهَا مَوْتَاكُمْ
অর্থ: হযরত সামুরা বিন জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু হতে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা সাদা লিবাস পরিধান করুন। নিশ্চয়ই তা অধিক পবিত্র ও অতি উত্তম লিবাস মুবারক। এবং উক্ত সাদা লিবাস মুবারক উনার দ্বারা মৃত ব্যক্তির কাফন সম্পাদন করুন। (আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মাযাহ শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْه قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِهٰذِهِ الْبَـيَاضِ فَـلْيَـلْبِسْهَا اَحْيَائُكُمْ وَكَفِّنُـوْا فِيْـهَا مَوْتَاكُمْ
অর্থ: হযরত সামুরা বিন জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের জন্য এই সাদা লিবাস পরিধান করা অপরিহার্য করে নাও। তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে তারা যেন সাদা লিবাসই পরিধান করে এবং যারা ইন্তিকাল করবে তাদের কাফন তোমরা সাদা কাপড়ের দ্বারাই সম্পন্ন করো। (তিরমিযী শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
قَالَ حَضْرَتْ اَبُـوْ ذَرٍّ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْه اَتَـيْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ ثَـوْبٌ اَبْـيَضٌ
অর্থ: হযরত আবূ জর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এমতাবস্থায় উপস্থিত হলাম, যে এসে দেখি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) থেকে শুরু করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত (ক্বদম মুবারক) পর্যন্ত সমস্ত নূরুল মুজাসসাম (জিসিম) মুবারক উনাতে তিনি সাদা লিবাস মুবারক পরিধান করে রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ اِنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُفِّنَ فِىْ ثَلَاثَةِ اَثْـوَابٍ يَمَانِيَّةٍ بِيْضٍ سَحُوْلِيَّةٍ مِّنْ كُرْسُفٍ لَيْسَ فِيْـهَا قَمِيْصٌ وَلَا عِمَامَةٌ
অর্থ: উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেন, তখন উনার কাফন মুবারক ইয়ামান দেশের তৈরী মোটা সাদা সূতি কাপড়রের তিনটি পোশাক মুবারক উনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছিল। যার মধ্যে ক্বমীছ ও পাগড়ী মুবারক ছিলনা। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ عَلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ قُمْصٌ مِّنْ قُطْنٍ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি হুদাইবিয়ার দিনে সূতি কাপড়ের জামা মুবারক পরিধান করেছেন। (মাজমাউজ যাওয়ায়িদ লিল হাইছামী)
قَدْ أَخْرَجَ الدِّمْيَاطِيُّ كَانَ قَمِيْصُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُطْنًا
অর্থ: হাফিয দিমইয়াত্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূতী কাপড়ের ক্বমীছ মুবারক পরিধান করতেন। (ইতহাফুল ক্বরী লি-দূরারিল বুখারী ৯/৯৪, আল-ফাতহুর রব্বানী লি-তারতীবি মুসনাদিল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানী, তুহফাতুল আহওয়াজী, মিরক্বাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ ৭/২৭৭২)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ سَلْمَةَ بْنِ الْاَكْوَعِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قُـلْتُ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ صلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنِّىْ رَجُلٌ اُصَيِّدُ اَفَاُصَلِّىْ فِى الْقَمِيْصِ الْوَاحِدِ قَالَ نَـعَمْ وَازْرُرْهُ وَلَوْ بِشَوْكَةٍ
অর্থ: হযরত সালমা ইবনে আকওয়া’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি একজন শিকারী লোক, আমি কি শুধু মাত্র একটি জামা পরিধান করে পবিত্র সলাত আদায় করতে পারব? তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যঁা পারবেন। তবে আপনার গলাবন্ধনীকে আটকিয়ে দিবেন, যদিও তা একটি কাটার দ্বারা হউক। (পবিত্র আবূ দাউদ শরীফ, পবিত্র নাসায়ী শরীফ)
উল্লেখ্য যে, পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখিত ازْرُرْهُ শব্দ মুবারক উনার দ্বারা এবং وَلَوْ بِشَوْكَةٍ শব্দ মুবারক দ্বারা একটি গুটলী ব্যবহার করা পবিত্র সুন্নত প্রমাণিত। এবং শুধুমাত্র একটি জামা পরিধান করে পবিত্র ছলাত আদায় করার অনুমতি প্রদান করার দ্বারা পবিত্র জামাটি কোণাফাঁড়া না হওয়া বরং গোল জামা হওয়া পবিত্র সুন্নত প্রমাণিত।
পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ উনার গলাবন্ধনীর নীচে ফাঁড়া অংশটিকে ফুত্হা বলে। আর গলাবন্ধনী ও সংশ্লিষ্ট ফাড়া অংশকে একত্রে জেব বলে। জেব শব্দটি এক বচন, বহু বচনে جُيُـوْبٌ (জুয়ূবুন)। যা প্রথমে ক্বমীছ পরিধান করতে মাথা প্রবেশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তারপর গলাবন্ধনীকে একটি গুটলী দ্বারা আটকিয়ে দেয়া হয়। যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُـوْبِهِنَّ
অর্থ: মহিলারা যেন তাদের গলা ও বক্ষদেশ ওড়না দ্বারা ডেকে নেয়।
جُيُوْبِهِنَّ يَعْنِيْ مَوْضِعُ الْجَيْبِ وَهُوْ النَّحْرُ وَالصَّدْرُ
অর্থ: جُيُوبِهِنَّ (জুয়ূবিহিন্না) অর্থাৎ জামায় গলা ও বক্ষ দু’টি স্থানকে জেব বলা হয়। (তাফসীরে ইবনে আব্বাস পৃ:২৯৫, তাফসীরে কুরত্ববী ১২/২৩০, ফতহুল ক্বদীর লিশ-শাওকানী ৪/২৪, তাফসীরে খাযিন ৩/২৯২, তাফসীরে জালালাইন পৃ: ৪৬২ ইত্যাদি)
যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِيْ جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَـيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوْءٍ
অর্থ: আপনি আপনার হাত মুবারক পবিত্র সুন্নতী জামা মুবারক উনার বুকের উম্মুক্ত অংশে প্রবেশ করান। তা ত্রুটিমুক্ত বিচ্ছুরিত শুভ্র আলো হয়ে বের হয়ে আসবে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নমল শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ-১২)
يَعْنِيْ أَدْخِلْ يَدَكَ بِسُهُوْلَةٍ
অর্থাৎ: আপনি আপনার হাত মুবারক সহজভাবে প্রবেশ করান।
أَدْخِلْ يَدَكَ এবং واسْلُكْ يَدَكَ এর মধ্যে
পার্থক্য হলো: জামার গুটলী যদি খোলা থাকে তাহলে এক্ষেত্রে إِدْخَالٌ ব্যবহৃত হয়। আর জামার গুটলী যদি বন্ধ থাকে, তাহলে হাতকে কোমলভাবে প্রবেশ করাতে তার জন্য জায়গা প্রশস্ত করার প্রয়োজন হয়। সে কারণে জামার গুটলী যদি বন্ধ থাকে তাহলে হাতকে কোমলভাবে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে اُسْلُكْ ব্যবহৃত হয়। (তাফসীরুশ শা’রাভী ১৮/১০৭৪৫)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عُرْوَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُـرَّةَ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْـهُمْ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ قَالَ أَتَـيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْ رَهْطٍ مِّنْ مُزَيْـنَةَ فَـبَايَعْنَاهُ وَإِنَّ قَمِيْصَهٗ لَمُطْلَقُ الْأَزْرَارِ قَالَ فَـبَايَعْنَاهُ ثُمَّ أَدْخَلْتُ يَدِيْ فِيْ جَيْبِ قَمِيْصِهٖ فَمَسَسْتُ الْـخَاتَمَ
অর্থ: হযরত উরওয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মুয়াবিয়া বিন ক্বুররা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন, আমার পিতা হযরত ক্বুররা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু বলেছেন, আমি একদা মুযাইনা গোত্রের একদল লোকের সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে আসলাম এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল মাগফিরাহ্ (হাত মুবারকে) বাইয়াত গ্রহণ করলাম। ঐ সময় উনার সম্মানিত ক্বামিছ মুবারক উনার কাপড়ের গুটলী মুবারক খোলা ছিল। রাবী বলেন, আমরা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল মাগফিরাহ্ (হাত মুবারকে) বাইয়াত গ্রহণ করার পর আমি আমার হাত খানা উনার মহাসম্মানিত ক্বামিছ মুবারক উনার ভিতরে প্রবেশ করালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মহরে নুবুওওয়াত মুবারক স্পর্শ করলাম। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, আহমদ শরীফ, ছহীহ ইবনে হাব্বান, শরহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী ১২/১৫, শুয়াবুল ঈমান ৮/২৮২, মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতুল মাছাবীহ ৭/২৭৭৫)
মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্বমীস উনার হাতার দৈর্ঘ্য কব্জি হতে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত প্রলম্বিত হতে পারবে। তবে কব্জির কম অথবা আঙ্গুলের মাথা হতে বেশি হতে পারবে না। মূল মাসআলা এটাই। যদিও বিভিন্ন কিতাবে বিষয়টি বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَسْمَاءِ بِنْتِ يَزِيْدَ بْنِ السَّكَنِ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْـهَا قَالَتْ كَانَ كُمُّ قَمِيْصِ رَسُوْلِ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الرُّسْغِ
অর্থ: হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ বিন সাকান রদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ক্বমীছ মুবারক উনার হাতা মুবারক কব্জি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, শরহুস সুন্নাহ লিল-বাগভী, আল-আদাবু লিল-বাইহাক্বী শরীফ)
জীবিত ব্যক্তির জামায় হাতার নীচে ডান ও বাম দুই পাশে^র্ মোট চারটি কাপড়ের টুকড়া ব্যবহার করা হয়। উক্ত চার টুকড়া কাপড়ের একটি টুকড়াকে দিখরীছ বলা হয়। আর একত্রে চারটি টুকড়াকে দাখারীছ বলা হয়। যা চার কোণ বিশিষ্ট ও উপরের দিকে সরু এবং নীচের দিকে প্রশস্তÍ হয়ে থাকে। যার প্রান্ত সমূহ সেলাই করা থাকে।
জামার সামনের এক টুকড়া ও পিছনের এক টুকড়ার প্রত্যেকটিকে ((اَلْكُفَّةُ আল কুফ্ফাতু বলা হয়।
তাহলে চার টুকড়া দিখরীছ ও দু’ টুকড়া ((اَلْكُفَّةُ আল কুফ্ফা সহ সর্বমোট ছয় টুকড়া বিশিষ্ট ক্বামিছ পরিধান করাই পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
তথ্যসূত্র: মাসিক আল বাইয়্যিনাত (২৯০-২৯৩, ২৯৮ তম সংখ্যা)
ট্যাগসমূহ: কোরআনে পোশাকের বর্ণনা সুন্নতি পোশাক কেমন নবীজির পোশাক কেমন ছিল মৃত ব্যক্তির পোশাক কেমন হবে দাফনের পোশাক কেমন কাফনের কাপড়ের বর্ণনা মুসলমানদের নির্দিষ্ট পোশাক সুন্নতী পোশাকের হাদিস
জুন 24, 2026 by Muhammad Mustain Billah Rafi